|
আঞ্চলিক বাণিজ্যে অশুল্ক বাধাই বড় |
|
|
|
|
News
|
|
আঞ্চলিক বাণিজ্যে অশুল্ক বাধাই বড়
 এমসিসিআই ও পিআরআইর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম- সমকাল
বৃহস্পতিবার | ১৪ জুন ২০১২ সমকাল প্রতিবেদক
আঞ্চলিক বাণিজ্যে শুল্কের চেয়ে অশুল্ক বাধা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি থেকে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) সুবিধা নিতে পারছে না। বড় অর্থনীতি ও প্রভাবশালী সদস্য দেশের কারণে এসব চুক্তি অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থা দূর করতে অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন করা দরকার।
গতকাল বুধবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে 'বাংলাদেশের বাণিজ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্টের (আপটা) প্রভাব' শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইউএনএসক্যাপ এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। উদ্বোধনীসহ সেমিনারটি তিন পর্বে শেষ হয়।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোর্তজা রেজা চৌধুরী ও ইউএনএসক্যাপের পরিচালক রবি রতনায়েক।
সেমিনারে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল চৌধুরী, সাবেক সচিব ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, এফবিসিসিআইর পরিচালক আবদুল হক ও এমএ মোমেন প্রমুখ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচটি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এসব চুক্তির সদস্য দেশগুলোতে কোটা ফ্রি প্রবেশাধিকারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ৪২ থেকে ৪৪টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে অশুল্ক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। দুঃখজনক হলো, কোনো দেশের সঙ্গেই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নেই।
আইসিসিবির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর জন্য আপটা এখনও উপকার বয়ে আনতে পারেনি। অথচ ছোট দেশগুলোরই বেশি সহায়তা প্রয়োজন।
ইউএনএসক্যাপের পরিচালক রবি রতনায়েক বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আঞ্চলিক বাণিজ্য আরও জোরদার করতে হবে। সেমিনারে জানানো হয়, ২০১০-১১ অর্থবছরে আপটাভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ আপটার মোট রফতানির মাত্র ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে দেশগুলো থেকে আমদানির পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের জ্যেষ্ঠ গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, আপটাভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্যে যত খরচ হয় তার মাত্র ১০ শতাংশ হয় শুল্কগত কারণে। বাকিটা হয় অশুল্ক বাধায়।
|