Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পুঁজিব্যবস্থা বদলাতে হবে

View

News Published: Saturday, May 23, 2015

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পুঁজিব্যবস্থা বদলাতে হবে

আপডেট: ০১:০৬, মে ২৩, ২০১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন বাজেট সামনে রেখে দেশের রাজস্বব্যবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর

আহসান এইচ মনসুরপ্রথম আলো: আগামী ৪ জুন ২০১৫–১৬ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য দেওয়া উচিত?
আহসান এইচ মনসুর: আগামী অর্থবছরে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে, এটাই তাদের (সরকার) প্রত্যাশা। এমন প্রেক্ষাপটেই আগামী বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ভালো কিছু উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বিনিয়োগ-সংকট নিরসনের উদ্যোগ থাকতে হবে। এ ছাড়া উন্নয়নমূলক ও দরিদ্রবান্ধব বাজেট হতে হবে। প্রবৃদ্ধির চাকা ঘুরে এমন উদ্যোগ থাকতে হবে বাজেটে।
প্রথম আলো: আগামী অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য কতটা অর্জন করা সম্ভব?
আহসান মনসুর: চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে ৩৩ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতার আলোকে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এত বিশাল লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরে যে ধরনের সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। এখনো শুরু করলে সেই সংস্কার করতে এক থেকে তিন বছর সময় লাগবে। নতুন মূসক আইন বাস্তবায়ন করলে এখনই সুফল পাওয়া যাবে। আর আয়করে সুফল পেতে আরও তিন বছর সময় লাগবে। তাই ‘রেডি’ কিছু পাওয়া যায় এমন উদ্যোগ বাজেটে থাকা উচিত।

প্রথম আলো: নতুন বা বিদ্যমান কোন খাত থেকে রাজস্ব আদায় কীভাবে বাড়ানো সম্ভব?

আহসান মনসুর: তামাকশিল্প, বেতন খাত থেকে সরকার রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারে। এ খাতগুলো থেকে রাজস্ব বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।

 প্রথম আলো: তামাকশিল্প থেকে কীভাবে রাজস্ব বাড়াবে? 

আহসান মনসুর: ভুল নীতির কারণে সরকার তামাকশিল্প থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারছে না। সিগারেটের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে সাধারণত চারটি ধাপ অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো: প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্য-উচ্চ ও নিম্নস্তর।

বর্তমানে কম দামের সিগারেটের বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ৬৩ শতাংশ। কয়েক বছর আগে এর অংশ ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ। এর মানে হলো, মানুষ কম দামি সিগারেটের দিকে বেশি ঝুঁকছে। আর কম দামি সিগারেটের করহারও অনেক কম। মাত্র ৫৬ শতাংশ কর দিতে হয়। আর প্রিমিয়াম ও উচ্চস্তরে এ হার ৭৭ শতাংশ। আর মধ্য-উচ্চস্তরের করহার ৭৬ শতাংশ।

সিগারেটের ভোক্তাদামের ওপর কর বসে। তাই নিম্নস্তরে সিগারেটের দাম বাড়িয়ে যদি সেই অনুপাতে কর বসানো হয়, তবে সিগারেট কোম্পানির মালিকের যেমন মুনাফা কমবে না, আবার কম দামি সিগারেটের দাম বাড়লে এর ভোক্তা-চাহিদাও কমবে। যা জাতীয় স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সব ধরনের সিগারেটের ওপর অভিন্ন ৭৭ শতাংশ করহার আরোপ করা হলে বছরে রাজস্ব আদায় কমপক্ষে তিন-চার হাজার কোটি টাকা বাড়বে। কম দামি সিগারেটের দাম কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বাড়ানো উচিত।

প্রথম আলো: আপনার প্রস্তাবমতো, বেতনে কীভাবে কর বসানো উচিত?

আহসান মনসুর: পৃথিবীর বহু দেশেই বেতন থেকে অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়। বহু দেশে আয়করের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মতো আসে এ খাত থেকে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান কর আরোপযোগ্য কর্মীদের বেতন দেওয়ার সময় অগ্রিম কেটে রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি এনবিআরের পক্ষে এ কাজটি করবে। বাংলাদেশে কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, আয়করের ৩০ শতাংশ আসে ঠিকাদারের কাছ থেকে। এ আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ শতাংশ কর আসে। কিন্তু বেতন থেকে আসে মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু বেতন খাত অগ্রিম কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের কর আসে মোট আয়করের ৬৩ শতাংশ, আর যুক্তরাষ্ট্রে তা ৮৭ শতাংশ।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক খাত অনেক বড় হয়েছে। লাখ লাখ লোক কাজ করছেন এ খাতে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যদি বলে, করযোগ্য বেতনভুক্ত কর্মীদের ইটিআইএন থাকতে হবে। আর প্রতি মাসে বেতন দেওয়ার সময় ১২ মাসের আনুপাতিক হারে অগ্রিম কেটে রাখা হবে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়বে। আবার ইটিআইএনের বিপরীতে অগ্রিম কর দেওয়ার এনবিআরের কর্মকর্তাদের পক্ষেও যাচাই করা সম্ভব হবে, বছর শেষে ওই ব্যক্তি আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন কি না।

প্রথম আলো: বর্তমান বাস্তবতায় সম্পদ কর বসানো কতটা সম্ভব?

আহসান মনসুর: বাংলাদেশে সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী আয়করের ওপর সারচার্জ বসানো হয়েছে। এর সঙ্গে সম্পদ করের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সম্পদের ওপর কর বসানো উচিত। কিন্তু বর্তমানে সমস্যা হলো ক্রয়মূল্যের ওপর সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কেউ ৪০ বছর আগে ৬০ হাজার টাকায় গুলশানে প্লট কেনেন, এখনো ওই প্লটের মূল্য ৬০ হাজার টাকা দেখানো হয়। কেন তাঁকে গরিব করে রাখা হবে? সম্পদের মূল্য বাজারমূল্যে করা উচিত। পৃথিবীর সব দেশেই বাজারমূল্যে সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকাভেদে জমি ও ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করা উচিত। এরপর সেই সম্পদের ওপর অল্প হারে কর বসানো উচিত, কেননা বাজার দরে সম্পদের মূল্য অনেক।

প্রথম আলো: তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর হার বাড়ানো উচিত?

আহসান মনসুর: অবশ্যই বসানো উচিত। তৈরি পোশাকের মতো একটি প্রবৃদ্ধিশীল খাত কেন একটি স্বতন্ত্র অবস্থায় থাকবে? এটা হতে পারে না। বর্তমানে এ খাতের উৎসে কর দশমিক ৩ শতাংশ থেকে অন্তত আগের দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করা উচিত। আগের হার কমানোর ফলে প্রতিবছর গড়ে এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

প্রথম আলো: বর্তমানে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগটি কি রাখা উচিত?

আহসান মনসুর: ফ্ল্যাট কিনে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। উৎস না জেনে বিনা প্রশ্নে এনবিআর মেনে নেবে, এটা ঠিক নয়। অবশ্যই অর্থের উৎস জানানোর শর্ত থাকা উচিত। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে সৎ করদাতাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয় না। তবে জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত বৈধ আয় ঘোষণায় আনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

প্রথম আলো: বিনিয়োগের স্বার্থে করপোরেট করহার কমানো কি উচিত?

 আহসান মনসুর: অবশ্যই কমানো উচিত। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভারতও আগামী ৫ বছরে ২৫ শতাংশে করপোরেট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ করপোরেট কর ২৫-৩০ শতাংশের মধ্যে রাখা উচিত। তবে তা ধাপে ধাপে করতে হবে। কর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রণোদনা পেলে বিনিয়োগ বাড়বে।

প্রথম আলো: সম্প্রতি আপনি বলেছেন, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো উচিত নয়। কেন?

আহসান মনসুর: সব কর্মক্ষম ব্যক্তিকে করের আওতায় আনা উচিত। তাঁদের ন্যূনতম কর হলেও দেওয়া উচিত। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের ৩ গুণ। আগামী পাঁচ বছর এ সীমা না বাড়ালে আস্তে আস্তে বহু লোক করজালে ঢুকে যাবে। এতে করজাল বিস্তৃত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু আয় ৫৫ হাজার ডলার। কিন্তু সে দেশে ন্যূনতম করমুক্ত আয়সীমা মাত্র ৩ হাজার ৫০০ ডলার। এতে সে দেশের কর্মক্ষম প্রায় সব ব্যক্তিই কর দেন।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে কেমন পর্যায়ে রয়েছে?

আহসান মনসুর: সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সম্মানজনক প্রবৃদ্ধি, ঈর্ষা করার মতো রিজার্ভ, সংযত আর্থিক ব্যবস্থাপনা (ফিসক্যাল ম্যানেজমেন্ট) এসব সূচকে বলা যায়, সামষ্টিক অর্থনীতি ভালো রয়েছে। সামষ্টিক স্থিতিশীলতাকে পুঁজি করে কীভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো যায়, সেটাই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। এ জন্য রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পুঁজিব্যবস্থা বদলাতে হবে। এর পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থাকে অর্থনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাহাঙ্গীর শাহ

http://www.prothom-alo.com/economy/article/534838/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%88%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87

Speech