Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

কর্মসংস্থান ছাড়া প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না

News Published: Thursday, Jun 18, 2015

The Prothomalo.gif

পিআরআইতে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান

কর্মসংস্থান ছাড়া প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০০:৪৪, জুন ১৮, ২০১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেই সব সময় কর্মসংস্থান বাড়ে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থান ছাড়া প্রবৃদ্ধি হলে তা টেকসই হবে না। তাই প্রবৃদ্ধি হতে হবে কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক।
উন্নয়ন ভাবনায় কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদেরা এ কথা বলেছেন। রাজধানীর বনানীতে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) মিলনায়তনে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে যৌথভাবে পিআরআই এবং বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
বইয়ের লেখক আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কর্মসংস্থানবিষয়ক সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি বাড়লেই যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তা ঠিক নয়। যদিও আমরা গতানুগতিকভাবে বলে থাকি যে প্রবৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থানও বাড়বে, দারিদ্র্য বিমোচন হবে। কিন্তু এসবের জন্য প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, তবে তা যথেষ্ট না।’
পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। কিন্তু এটা হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। এ জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যে ১৩টি দেশ টেকসই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তাদের সেই প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানহীন ছিল না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেই তারা প্রবৃদ্ধি করেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মসংস্থান। কিন্তু বাংলাদেশের মতো আর কোনো দেশের সংবিধানে কর্মসংস্থান নিয়ে এত কিছু বলা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। অথচ বাংলাদেশের সরকার কর্মসংস্থান নিয়ে কিছু জানে কি না আমার সন্দেহ আছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে কোনো কাজ হচ্ছে না।
বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান বলেন, দেশে উন্নয়ন হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে আরও উন্নয়ন হতো।
বেশি শিক্ষিতরাই বেশি বেকার: বইতে রিজওয়ানুল ইসলাম দেখিয়েছেন, কখনোই বিদ্যালয়ে যাননি কিংবা শুধু প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেকার কম। সবচেয়ে বেশি বেকার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করা ব্যক্তিদের মধ্যে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের শিক্ষা কি তাহলে কাজে লাগছে না? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা তাহলে কী শিক্ষা দিচ্ছি?’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক বরকত ই খোদা বলেন, ‘উচ্চশিক্ষিতদের চেয়ে স্বল্পশিক্ষিত/অশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব কম। কারণ, আমার-আপনার ছেলের মতো একজন রিকশাচালকের ছেলের কাজ না করে বসে থাকার মতো বিলাসিতা করার সুযোগ নেই। তার দারিদ্র্য তাকে কাজ করতে বাধ্য করে।’
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘যুবকদের একটি অংশ এখন হতাশ। তাদের সামনে কোনো ভিশন নেই। তারা মনে করে, যেকোনোভাবেই বিদেশ যেতে পারলেই তাদের ভাগ্য খুলে যাবে। সে জন্য তারা যেকোনোভাবে দেশান্তরি হতে চাইছে।’
বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বেকার যুক্তরাষ্ট্রে!: প্রকাশিত বইয়ে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ বেকার। আর ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারের হার ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অনুষ্ঠানে লেখক বলেন, ‘তাহলে কি আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি? না। মূল সমস্যা হলো, দেশের মানুষ কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু যথেষ্ট আয় করতে পারছে না। আবার অনেক মানুষ যথেষ্ট কাজ করছে না।’
একই প্রসঙ্গে সাবেক আমলা কাজী মেজবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আপনাকে কর্মসংস্থানের মধ্যে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু কাজ করে আপনি যে আয় পাচ্ছেন, তা দিয়ে দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারছেন না। তাহলে বেকারত্বের হার ৪ শতাংশ হয়ে লাভ কী?’
বইয়ে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে দেশের মোট কর্মরত মানুষের অর্ধেকই দিনে মাত্র ১ দশমিক ২৫ ডলার (৯৮ টাকা) আয় করত। ওই সময় ভারতে এ হার ছিল ৩৯ শতাংশ।
শ্রমশক্তি জরিপ নিয়ে প্রশ্ন: পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশে কোন প্রেক্ষাপটে, কোন ঘটনাক্রমে (ফ্রিকোয়েন্সি) শ্রমশক্তি জরিপ করা হয়, তা আমরা জানি। এই ঘটনাক্রমে করা জরিপের তথ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা সম্ভব না।’
জায়েদী সাত্তার বলেন, শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান নিয়ে যেসব তথ্য-উপাত্ত আছে, তাতে যথেষ্ট গরমিল দেখা যায়।
কাজী মেজবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শ্রমশক্তি জরিপ-২০১০টি পড়লে আমি খুবই বিরক্ত হই। কারণ এর ছত্রে ছত্রে ভুল।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, ইউপিএলের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন আহমেদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি কামরান টি রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান, বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

http://www.prothom-alo.com/economy/article/555937/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%87-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE

Speech