Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

গার্মেন্ট অবকাঠামো পুনর্গঠনে রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে

News Published: Sunday, Jun 09, 2013

গার্মেন্ট অবকাঠামো পুনর্গঠনে রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে

ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ মে ২০১৩

স্টাফ রিপোর্টার : রানা প্লাজা ধস পরবর্তী গার্মেন্টস খাতের সার্বিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য রোডম্যাপ তৈরী করেছে বাংলাদেশ। অন্ধকার শেষে দেখা যাচ্ছে উজ্জল আভা। সরকার, 1369939473দাতা সংস্থা, বিজিএমইএ, ক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে এ রোডম্যাপ বাস্তবায়নের ফলে গার্মেন্টস খাতে রচিত হবে নতুন অধ্যায়ের। বর্তমান সমস্যা উত্তরণের পাশাপাশি এ খাতে তৈরী হবে আন্তর্জাতিকমানের অবকাঠমো এবং এতে করে ভবিষ্যত উন্নয়নের দিক নির্দেশনাও পাওয়া যাবে। ফলে শহরাঞ্চলের শ্রমঘন এলাকার শ্রমিকের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষেত্রে পঙ্গু ও ক্ষমতাহীন এবং অবহেলিত গ্রামের হস্তশিল্পভিত্তিক নারী শ্রমিকরাও উপকৃত হবে। গতকাল সকালে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংলাপের প্রস্তাবনায় এ বিষয়গুলো উঠে আসে।

রানা প্লাজা ধসের পরবর্তীতে পলিসি রিসার্স ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ’র(পিআরআই) এর সাথে যৌথভাবে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র(এমসিসিআই) এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন’র(বিইএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে। আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করবো এমন ধারণা থেকেই এ সংলাপের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরা হয়। গার্মেন্টস খাতকে নিরাপদ ও শ্রমবান্ধব করতে চাচ্ছেন বায়ার এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থেরও যোগান দিতে চাচ্ছে। শর্ত হলো দীর্ঘস্থায়ী নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আর এ কাজ দেশীয়ভাবে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে বাংলাদেশের পুরো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সমাজ ঐক্যবদ্ধ। আর এ জন্যই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরী করা হয়েছে এ প্রস্তাবনা বা রোডম্যাপ।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং বিজিএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র(এমসিসিআই) সভাপতি এবং সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন’র (বিইএফ) সভাপতি ও বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক। পলিসি রিসার্স ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ’র(পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সংলাপের মূল বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল এর ম্যানেজিং পার্টনার ইফতি ইসলাম। মূল প্রবন্ধ তৈরীতে হাতে বুনন’র প্রধান নির্বাহী সামান্থা মোরশেদসহ ১২ জনের আরএমজি খাত সংশ্লিষ্ট একদল গবেষক। পরে এর উপর আলোচনা করেন, মোহাম্মদী গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক রুবানা হক এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কারস সলিডারিটি’র (বিসিডব্লিউএস) নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার। এরপর উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে মূল প্রবন্ধের উপর আলেচনা করেন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত রাঙ্গঁনে বিরতে লুন্ড, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত খেরবেন সুরড ডা ইয়াং, ডিএফআইডি’র বাংলাদেশ প্রধান সারাহ কুক, রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির, হাতে বুনন-এর চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ, জেরী গেরহার্ড, আমিরুল ইসলাম, ফাহমিদা হোসেন, রাশিদা ইসলাম এবং কয়েকজন বায়ার প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। সংলাপে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনিসুল হকসহ উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, জাপান দূতাবাস, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইএফসি, জার্মান চেম্বার, দাতা সংস্থা, ক্রেতা প্রতিনিধি(বায়ার) এবং সিভিল সোসাইটিসহ এ খাত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেন, এ শিল্পের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে শ্রমিকের স্বার্থরক্ষা করা মালিকদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে তবে ও এক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতাদেরও কিছু ভূমিকা আছে। সেই সঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে মালিকদেরও।

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের বর্তমান মাস পর্যন্ত আমাদের রপ্তানী প্রবৃদ্ধি ১০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গার্মেণ্টস খাত সব সমস্যার পরও এগিয়ে চলেছে। গার্মেন্টস খাতের জন্য সরকারই সত্যিকারের রেগুলেটরী অথরিটি। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ সরকারের কাজকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে থাকে। আমাদের সমস্যাগুলো আমরা বের করেছি। সমাধানেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিদর্শকসহ নতুন জনশক্তি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি দিয়ে আমরা অন্তত প্রতি ৩ মাসে একবার কারখনাগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে পারবো বলে আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে নিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন হলে ভালো।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান সংলাপে উত্থাপিত ১০ দফা রোডম্যাপের প্রশংসা করে বলেন, আইএলও কনভেনশনে বর্ণিত ৮টি ধারার ৭টিই বাংলাদেশের শ্রম ব্যবস্থায় বাস্তবায়ন করেছে। বাকী একটি ধারাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আমাদের গার্মেন্টসের প্রধান সমস্যা হলো, এ খাতে অধিকাংশ সামগ্রীই এখনো আমদানী নির্ভর।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টস খাত টিকিয়ে রাখতে হলে ইউনিফাইড কোড অব কন্ডাক্ট করতে হবে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আমরা শ্রমিকদের জন্য আলাদা ওয়েজবোর্ড তৈরীর ঘোষণা করেছি। আমরা যেভাবে শ্রমিকদের কল্যাণে নজর দেব একইভাবে শ্রমিকদেরও আমাদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গার্মেন্টস খাতকে বর্তমান অবস্থা উত্তরণে এবং আগামীর উপযোগী করে গড়ে তুলতে হলে সকল পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে। কাইকে দোষারোপ করা যাবে না। কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বলছি রাতারাতি কোনো কিছুই সম্ভব নয়। তবে এটাও বলছি যে ক্রেতারা সব সময় কমপ্লাইন্সের কথা বলেন, কিন্তু তারা মূল্য দিতে চান না।
শ্রমিকদের নিম্ন মজুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, শ্রমিকদের আমরা ৫০ ডলার বেতন দেই বলে অভিযোগ করা হয়। এটা ঠিক নয়। জীবনে শহরে আসেনি এবং কোনরকম অভিজ্ঞতা নেই, এমন শ্রমিকদের বরং আমরা কাজ দেবার মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখাই। তারা কাজে যোগদানের দু’মাসের মধ্যেই আবার নিজের বেতন বাড়ানোর জন্যও মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করতে পারে এবং তার দক্ষতা অর্জনের অনুপাতে বেতন বৃদ্ধি পায়। আর এভাবেই একজন শ্রমিক নিজেই নিজের অধিকার অর্জন করে।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত রাঙ্গঁনে বিরতে লুন্ড বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম না। পরবর্তীকালে এ ঘটনার বিষয়টি জাতিসংঘের বিভিন্ন সভাতেও আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি এ ঘটনা বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের সামনে দায়িত্বশীলতা এবং সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। এদেশে মানব সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে। আপনারা এগিয়ে যান, নরওয়েসহ পুরো বিশ্ব আপনাদের সাথে আছে।

নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত খেরবেন সুরড ডা ইয়াং বলেন, বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে পজিটিভ ওয়েতে দেখে। গার্মেন্টস খাত বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ইমেজ তৈরী করেছে। এ জন্য নতুনভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা আপনাদের সাথে থাকবো।

ডিএফআইডি’র বাংলাদেশ প্রধান সারাহ কুক বলেন, আমরা গার্মেন্টস সেক্টরের সবাইকে এক প্লাটফরমে এনে সমন্বিত উদ্যোগ নেবার চেষ্টা করেছি। আজকে এটা খুব ভালো উদ্যোগ যে, গার্মেন্টস খাতের সবাইকে এক প্লাটফরমে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা করতে পারলে এ খাত সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবে।

আমিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের নতুন শ্রম আইন হতে হবে একইসাথে শ্রমিক এবং কারখানাবান্ধব।

কল্পনা আক্তার বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের বিকল্প কিছু হতে পারে না। তিনি শ্রমিক কল্যানে বায়ারদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেবার আহবান জানান।

বিদেশি ক্রেতারা তাদের বক্তব্যে তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ না থাকায় অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার অবসানে একইসঙ্গে সব পক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনায় পোশাক খাতের জন্য বিশেষ কর্ম পরিকল্পনা তৈরিরও তাগিদ দেন তারা।

http://www.dailyinqilab.com/archive_details.php?id=111476&&%20page_id=%205&issue_date=%202013-05-31

 

Speech