Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী

News Published: Thursday, Jun 14, 2012

জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী

বৃহস্পতিবার | ১৪ জুন ২০১২। সমকাল
বিশেষ প্রতিনিধি

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাজেট ব্যয়ের আকার উচ্চাভিলাষী নয়। তবে সরকার আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় তারা এমনটি বলেছেন। 

গতকাল বুধবার মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) যৌথভাবে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এমসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নিহাদ কবির। সূচনা বক্তব্য দেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার। দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এবং এমসিসিআই শুল্ক ও কর উপ-কমিটির চেয়ারম্যান আনিস এ খান। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ তসলিম এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। 

মির্জ্জা আজিজ বলেন, তিনি অর্থনীতির ১৭টি সূচকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিয়ে দেখেছেন যে, রেমিট্যান্স ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা আগের বছরের তুলনায় খারাপ। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পক্ষে তিনটি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আইএমএফের ইসিএফ ঋণ কার্যকর হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগী এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে অধিকতর আস্থার সৃষ্টি হবে। পাইপলাইনে থাকা বৈদেশিক অর্থ ছাড় সহজ হবে। অর্থমন্ত্রীর এই যুক্তি ঠিক নয়। বিনিয়োগকারীরা দেখেন বিনিয়োগের পরিবেশ। অন্যদিকে অর্থ ছাড় নির্ভর করে পুরো প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের সন্তুষ্টি ও আমাদের কর্মকর্তাদের দক্ষতার ওপর। বাজেট বক্তব্যে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রে সুদহার বাড়ানোর কারণে এ খাত থেকে সরকার অধিকতর ঋণ নেবে এবং ব্যক্তি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। এ অবস্থা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। এ অনুমানও যুৎসই নয়। সঞ্চয়পত্রের সুদ হার বাড়ানোর পর গত কয়েক মাসে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর কারণ মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতা কমে গেছে। এসব বিবেচনায় জিডিপির ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব। 

অধ্যাপক এম এ তসলিম বলেন, বাজেটের আকার উচ্চাভিলাষী নয়। জিডিপির অনুপাত হিসেবে আগের মতোই। তবে এবারের বাজেট মূলত আইএমএফের শর্তনির্ভর বাজেট। সরকার তার নিজস্ব নীতি স্বাধীনতার সঙ্গে মারাত্মকভাবে আপস করেছে। অর্থমন্ত্রী আইএমএফের ঋণের জন্য প্রণীত স্মারকে উলি্লখিত লক্ষ্যমাত্রার আলোকেই বাজেটের নানা আকার ঠিক করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে রাজস্ব ও মুদ্রা উভয় নীতিই যথেষ্ট রক্ষণশীল থাকবে বলে মনে হচ্ছে। আহসান এইচ মনসুরের উপস্থাপনায় বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি দ্বিতীয় দফায় সংকটে পড়েছে। এর ফলে ইউরো অঞ্চলে চাহিদার পতন হয়েছে যার প্রভাব ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ওপর পড়েছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পরিস্থিতি উৎসাহব্যঞ্জক নয়। চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গেছে। অন্যদিকে ভর্ভুকির ক্রমাগত বৃদ্ধি সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় হুমকি। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার বাস্তবে তার সম্ভাবনা কম। তবে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে সীমিত রাখা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য নিম্নমুখী রয়েছে। ভারতের মুদ্রার ব্যাপক দরপতন হচ্ছে। এগুলো বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে। 

আবদুল মজিদ বলেন, বাজেটের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে যেয়ে কিছু কর প্রস্তাব করা হয় যা নাটকীয় মনে হয়। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের ওপর উৎসে কর আরোপের বিষয়টি জটিলতা বাড়াবে। কারণ গ্রাহকদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকের আয় করমুক্ত সীমার নিচে। সরকার তাদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া কর ফেরত দেবে কীভাবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরের প্রস্তাব করেন। আনিস এ খানের উপস্থাপনায় বলা হয়, এমসিসিআই সবসময় কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিরুদ্ধে। টিআইএন না থাকলে ব্যাংকের আমানতে বাড়তি কর আরোপ ও জীবন বীমার আয়ের ওপর কর আরোপ দেশের সঞ্চয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

Speech