Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় : চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৫%: আইএমএফ

News Published: Thursday, Apr 26, 2012

ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় : চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৫%: আইএমএফ

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৬, ২০১২
বনিকবার্তা নিজস্ব প্রতিবেদক

David_Cowenচলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। যদিও সরকার ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৭ শতাংশ। তবে বিভিন্ন খাতে নেয়া সংস্কার কর্মসূচি সরকার সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে ২০১৫ সাল থেকে এ হারে (৭ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড কোয়েন এ তথ্য জানান। বাংলাদেশে আইএমএফের আবাসিক প্রধান ইতেরি কিনত্রাজে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আইএমএফ ঋণের প্রথম কিস্তি গতকাল ছাড় করেছে। কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার এদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড কোয়েন বলেন, সময়মতো জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও সারের দাম সমন্বয় না করার কারণে সরকারকে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়েছে, যা ব্যাংকের তারল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে।

আইএমএফ মনে করে, সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করছে। সে কারণেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে ডেভিড কোয়েন বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুপারভিশন বাড়াতে হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর। এ খাতে যথাযথ তারল্য সহায়তাও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশকে আইএমএফের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইএমএফ কয়েকটি খাতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এসব সংস্কার কর্মসূচি সরকারের; আইএমএফের নয়। আমরা সহায়তা দিচ্ছি মাত্র। বর্ধিত ঋণ সুবিধার আওতায় সংস্কার কর্মসূচিগুলো হলো আর্থিক নীতি সংস্কার, আর্থিক ও বিনিময় হার নীতি, আর্থিক খাত সংস্কার এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংস্কার।’

তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে।

আইএমএফ মিশনপ্রধান বলেন, ‘চলতি অর্থবছর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে সরকারের ঋণ বেশি হয়েছে। আশা করছি, নতুন অর্থবছর তা নিয়ন্ত্রিত হবে। সরকারের অতিরিক্ত ঋণ বেসরকারি খাতকে বাধাগ্রস্ত করছে। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ গ্রহণ মূল্যস্ফীতি বাড়ায়। তাই সরকারকে সাশ্রয়ী হতে হবে।’ডেভিড কোয়েন বলেন, ২০১০ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। লেনদের ভারসাম্যে ঋণাত্বক অবস্থা বিরাজ করছে। জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে।

প্রথম কিস্তি ছাড়: আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হয়েছে। ফলে দিনের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ১০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে।

১২ এপ্রিল বাংলাদেশের জন্য ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার সুদবিহীন ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। ১০ বছরের জন্য এ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চাপ কাটাতে বর্ধিত ঋণ সহায়তার আওতায় এ ঋণ অনুমোদন দিয়েছে আইএমএফ।

 

Speech