Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

এখন সুদের হার বৃদ্ধিকে আটকানো ঠিক হবে না

News Published: Saturday, Feb 11, 2012

সাক্ষাৎকার 

এখন সুদের হার বৃদ্ধিকে আটকানো ঠিক হবে না

তারিখ: ১১-০২-২০১২

মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও আর্থিক খাতের চলমান অস্থিরতার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

AMপ্রথম আলো: নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে অর্থনীতির বর্তমান সময়ে এটি কতটা অর্থবহ হবে বলে মনে করেন?

আহসান মনসুর: মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে তা ঘোষণা করার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন। অতীতে আমরা দেখেছি, এই জায়গাটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। ফলে মুদ্রানীতির বিভিন্ন সূচককে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা সম্ভব হয়নি। সোজা কথায়, অর্থের প্রবাহ বারবারই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। এবারও উচ্চহারে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঋণের তথা অর্থের প্রবাহ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে মুদ্রানীতি প্রণীত হয়েছে। তবে এই মুদ্রানীতি ঘোষণার বেশ আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের প্রবাহ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। রেপো ও রিভার্স রেপোর হার কয়েক দফা বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ঋণের সুদের ওপর সর্বোচ্চ সীমা তুলে নিয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধির হার অর্থবছর শেষে ১৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানের ৬২ থেকে কমিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩১ শতাংশে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মুদ্রানীতিতে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত ছিল।

প্রথম আলো: সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি মানে হলো সুদের হার বৃদ্ধি এটা তো আর্থিক খাতে অস্থিরতা বাড়াবে!

আহসান মনসুর: এখন মূল লক্ষ্য হলো টাকার মান ধরে রাখা ও মূল্যস্ফীতি কমানো। এগুলো করা না গেলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো যাবে না, যা আবার বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে। সুদের হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া। সে ক্ষেত্রে সুদের হার কতটা বেড়ে গেল, তা নিয়ে এখন ভাবার দরকার নেই। তবে উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই নিজের মুদ্রানীতিতে কিছু ছাড় দিতে শুরু করেছে।

প্রথম আলো: ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের দরপতন হয়েছে অবশ্য গত এক সপ্তাহে টাকা আবার সামান্য শক্তিশালীও হয়েছে এটা কেন হলো?

আহসান মনসুর: ডলারের বিপরীতে টাকা একটু বেশি মূল্যমান হারিয়ে ফেলেছিল। এখন আবার তা ঠিক হচ্ছে। তবে টাকার দাম আর খুব বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। বছর খানেক আগে যেখানে টাকা একটু বেশি অতিমূল্যায়িত ছিল, বলা যায় এখন সেটা সংশোধন হয়ে গেছে। তাই ভবিষ্যতে বিনিময় হারে খানিকটা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে মনে হয়।

প্রথম আলো: বলা হচ্ছে, আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে এর মাত্রা আসলে কতটা প্রকট?

আহসান মনসুর: আসলে অস্থিরতা এক দিনে বা একটি কারণে তৈরি হয়নি। পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে। বেশ কিছু টাকা আটকে গেছে। কিছু ব্যাংক বেকায়দায় পড়েছে। এখন আবার যুক্ত হয়েছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। আর এ অবস্থায় অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। হাজার হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায়। আর এই অর্থ এসেছে মূলত সম্পদের মূল্যস্ফীতি থেকে।

প্রথম আলো: এটা কীভাবে হলো?

আহসান মনসুর: শেয়ারবাজার আর জমি বেচাকেনার মুনাফা হলো সম্পদের মূল্যস্ফীতির ফল। ফুলে ওঠা শেয়ারবাজারে অনেকেই কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছেন। কোনো ধরনের মূলধনি আয়কর না থাকায় সুযোগটা সহজেই পেয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে জমি ও অ্যাপার্টমেন্টের দাম প্রতিবছরই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আর এ ধরনের ব্যবসা থেকেও অনেকে প্রচুর অর্থ কামিয়েছেন। কিন্তু শেয়ারবাজারের এখন আর রমরমা অবস্থা নেই। জমির ক্ষেত্রেও মূল্য সংশোধনের আভাস মিলছে। এ পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনকারীরা বিদেশে বিভিন্নভাবে অর্থ পাঠিয়ে দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। বিদেশের সঙ্গে দেশের সম্পদও বিনিময় হচ্ছে। যেমন, কারও আত্মীয় বিদেশে থাকে। ওখানে সে একটা বাড়ি কিনছে। সে জন্য অর্থটা দেশেই তাকে দেওয়া হচ্ছে আরেকটা বাড়ি কিনে।

প্রথম আলো: পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?

আহসান মনসুর: এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির শিথিলতা ও দুর্বলতার সুযোগে। এখন ঠিক করতেও নীতিগত পদক্ষেপ লাগবে। মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক করা একটা মাত্র পদক্ষেপ। এর প্রভাবে আমানতের সুদের হার বাড়লে তা টাকার মূল্যমানকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে এবং অনেককেই দেশে অর্থ রাখতে কিছুটা উৎসাহিত করবে।

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসজাদুল কিবরিয়া]

Speech