Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে আরও তদন্ত করা প্রয়োজন

News Published: Tuesday, Dec 27, 2011

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে আরও তদন্ত করা প্রয়োজন

মঙ্গল, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮। ইত্তেফাক

ড. আহসান মনসুর, নির্বাহী পরিচালক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারি ও এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এবং শেয়ারবাজারের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সঙ্কট দেখা দেওয়া নিয়ে আমরা কথা বলেছি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান মনসুরের সঙ্গে। তিনি মনে করেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির কারণে টাকা কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে আটকে থাকায় এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে দেশের মুদ্রাবাজারের ওপর। এখানে সেটি তুলে ধরা হলো— শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারি নিয়ে আরও ইনভেস্টিগেশন করা প্রয়োজন। তবে বড় ব্যাপার হলো দোষীরা যদি অনায়াসে ছাড়া পেয়ে যায় এবং কোনো ধরনের বিচারের পর্যায়ে না আসে তা পরবর্তীতে বাজারকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে বলে বলা হয়েছে। তবে তা কতটা সঠিক এটা বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন। তবে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির কারণে টাকা কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে আটকে থাকায় এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে দেশের মুদ্রাবাজারের ওপর। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে বলা হলেও এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। কারণ এত পরিমাণ টাকার মূল্যমানের ডলার তারা কোথায় পেল এবং কিভাবে তারা নিয়ে গেল সে ব্যাপারে আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল। তবে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংক্রান্ত প্রকাশিত এ তথ্য যদি সঠিক হয়, তবে এ ব্যাপারে অবশ্যই সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে কিভাবে পাচার হলো তার পন্থা সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সব সময়। যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং যেসব পথে বা মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে সেসব পথ যে কোনো মূল্যেই বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মুদ্রাবাজার চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়ে যাবে। ইতোমধ্যে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ২০ হাজার কোটি টাকা বাজারে প্রবাহমান না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তারল্য সঙ্কটে ভুগছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে ঋণের সুদের হার। তবে শুধু এ কারণেই তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে তা বলা যাবে না। ব্যাংকগুলোর অস্বাভাবিক ঋণ সরবরাহও আরেকটি কারণ। এদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। ফলে এখানেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের টাকা চলে এসেছে শেয়ারবাজারে। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকগুলোর তারল্যের ক্ষেত্রে। তাছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বিও অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের টাকা শেয়ারবাজারে আটকে আছে। বাজার নিম্নমুখী থাকায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোও বাজার থেকে টাকা বের করতে পারছে না। ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের টাকা এখানে আটকে গেছে শেয়ারবাজারে যা দেশের তারল্য সঙ্কটের ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হিসেবে কাজ করছে। এদিকে টাকার সঙ্কটের কারণে দেশে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে বিনিয়োগের ওপর। তবে বড় ব্যাপার হলো দেশে টাকার মূল্য যেভাবে কমে যাচ্ছে তাতে সুদের হার কিছুটা বাড়াটা অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়া চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশের আমদানির চাহিদা অনেক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দেশের আমদানির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪১ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে বছর শেষে এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। ফলে টাকার মান ধরে রাখার জন্য সুদের হার বাড়তে পারে। এদিকে ঋণের সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের পরিমাণ কমতে পারে। এক্ষেত্রে বলা প্রয়োজন দেশে পর্যাপ্ত ঋণের প্রবাহ থাকা প্রয়োজন তবে কোনোভাবেই তা যেন অতিরিক্ত না হয়। অথচ সামপ্রতিক সময়ে দেখা গেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত চলে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ঋণ আমানত হার বলতে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে কত টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। মানসম্মত ঋণ আমানত হার হলো ৮০ সেখানে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত টাকা ঋণ দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ টাকার স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়ে যায় ঋণের সুদের হার।

 

 

Speech