Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

পিআরআই’র গোল টেবিল বৈঠক : সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বলতায় আইএমএফের উদ্বেগ

News Published: Sunday, Sep 18, 2011

 

The_Daily_Amardesh

পিআরআই
র গোল টেবিল বৈঠক : সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বলতায় আইএমএফের উদ্বেগ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য ঘাটতি, ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয়াসহ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সফররত সংস্থার মিশন প্রধান ডেভিড কোয়েন বলেন, বাজেট অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার অদক্ষতায় সরকার ব্যাংকের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে খরচ করায় দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ করায় প্রাইভেট সেক্টরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গতকাল পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত সামষ্টিক অর্থনীতিবিষয়ক এক গোল টেবিল বৈঠকে ডেভিড কোয়েন এসব কথা বলেন। 
পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে।


সভায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ডেভিড কোয়েন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো হলেও আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তৃতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তিনি বলেন, ১০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ওভারঅল ব্যালেন্স অব পেমেন্ট নেতিবাচক হয়েছে।
রেমিট্যান্স আয় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাড়ছে না উল্লেখ করে ডেভিড কোয়েন বলেন, এক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ আরও বেশি কার্যকরী হওয়া প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের বহুমুখী প্রভাব রয়েছে। ডেভিড কোয়েন আরও বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে বাংলাদেশ বেশ উন্নতি করেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ডাবল ডিপ (একবার অর্থনৈতিক মন্দার পরপরই আবারও মন্দাভাব) চলছে তাতে এ খাতে অর্জিত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ব্যাপারে কিছুটা শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।


তিনি বলেন, সরকার বিদেশি অনুদান পেয়েও তা ব্যবহার করতে পারছে না। এমনকি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়গুলো ঠিকমত খরচ করতে পারছে না। এটি উদ্বেগজনক। যতটুকু ব্যবহার করছে তারও গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ করার পরিমাণ না কমালে আগামীতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ডেভিড কোয়েন। তিনি বলেন, এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম দুই অংকের ঘর অতিক্রম করেছে। এর দ্বিতীয় অভিঘাত হিসেবে বহির্ভূত পণ্যের দামও বেড়েছে।


সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে আর্থিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। নতুন ব্যাংকের অনুমতি প্রদান এবং শেয়ারবাজারে বাংলাদেশ ফান্ড গঠনসহ বেশকিছু খাতে সরকারের প্রভাব অর্থনৈতিক প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো সামষ্টিক অর্থনীতিকে বেশি প্রভাবিত করে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বেশ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। রেগুলেশনারি বডি বা তদারককারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং এনার্জি কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। সাবেক গভর্নর আরও বলেন, অর্থনীতিতে বর্তমানে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে তা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিমূলক প্রবৃদ্ধি নয়। প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে খুব কম। অর্থনৈতিক বিভিন্ন নীতির ঘন ঘন পরিবর্তনের সমালোচনা করে সাবেক ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অর্থনৈতিক যে কোনো নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় কোনো নীতির প্রভাবই ঠিকমত অর্থনীতিতে বোঝা যাবে না।

 

Speech