Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

উন্নয়নকে বহুমাত্রিকভাবে পর্যালোচনার আহ্বান

News Published: Sunday, Feb 27, 2011

উন্নয়নকে বহুমাত্রিকভাবে পর্যালোচনার আহ্বান 

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৭-০২-২০১১

PALO_Image

‘উন্নয়নের অর্থনীতি’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে (বাঁ থেকে) রিজওয়ানুল ইসলাম, এম সাইদুজ্জামান, মসিউর রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ, জায়েদী সাত্তার ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

অর্থনীতিতে উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলেও এটি শুধু অর্থনীতির গণ্ডিতেই সীমিত নয়, বরং উন্নয়নকে বহুমাত্রিকভাবে দেখার সুযোগ আছে, যেখানে রয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।

রিজওয়ানুল ইসলামের উন্নয়নের অর্থনীতি গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনায় এ রকম আহ্বানই উঠে আসে। গতকাল শনিবার ঢাকায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে আলোচকেরা বইটির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে আরও বলেন, বাংলায় অর্থনীতি চর্চা বিশেষত উন্নয়ন অর্থনীতি চর্চার ক্ষেত্রে রিজওয়ানুল ইসলামের এই বইটি একটি মাইলফলক। এতে তত্ত্বের সঙ্গে তথ্যের সুসমন্বয় ঘটেছে। বইটি গবেষক, নীতিনির্ধারক, ছাত্র-শিক্ষক সবার কাজে লাগবে।


পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার এতে স্বাগত ভাষণ দেন। সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।


আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, উন্নয়নকে বহুমাত্রিকভাবে দেখার সুযোগ আছে। মানুষের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নও সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের সঙ্গে এখন জড়িত। তবে বইটিতে এ দিকটি সেভাবে আসেনি উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে এ বিষয়টির ওপর বিস্তারিতভাবে আলোকপাতের পরামর্শ দেন।


যুক্তরাজ্যের ওলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস আর ওসমানী বলেন, উন্নয়ন তত্ত্ব অনেক এগিয়ে গেছে। আশির দশক থেকে নব্য-প্রবৃদ্ধির তত্ত্ব স্থান করে নিচ্ছে। পরবর্তী তত্ত্বগুলো বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক গতিকে বোঝার জন্য অনেক বেশি সহায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন যে বইয়ে এ দিকটায় ঘাটতি আছে।


ওসমানী প্রবৃদ্ধি ও অসাম্যবিষয়ক অধ্যায়টির প্রতি আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, আয় বৈষম্য বা অসাম্য কমাতে গিয়ে যদি প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ছাড় দিতে হয়, তাহলে সেটা করা উচিত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চীনে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত গড়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশের ওপরে। আর তখন সেখানে অসাম্যও অনেক বেড়েছে। কিন্তু ১৯৯৫-র পর থেকে ১২-১৩ বছরে গড়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে আট শতাংশ হারে। অথচ এই সময়কালে চীনে অসাম্য খানিকটা কমেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওপর অধ্যায়টিতে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, আইএমএফ যা বলে সবই করতে হবে এমন নয়। আবার তাদের সব পরামর্শই খারাপ বা অপ্রয়োজনীয় নয়।


তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আইএমএফ বললেও বাংলাদেশের পক্ষে এখনই মূলধনি হিসাব উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ পরীক্ষা (স্ট্রেস টেস্টিং) করতে যখন বলেছিল, তখন তা ঠিকই ছিল।


সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, বাংলায় অর্থনীতি চর্চার ক্ষেত্রে উন্নয়নের অর্থনীতি গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে লেখক রিজওয়ানুল ইসলাম এবং প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিডেটের (ইউপিএল) স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, রিজওয়ানুল ইসলাম আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর অনেকগুলো গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও কিছু বই রয়েছে।

 
 
 

Speech