Policy Research Institute - PRI Bangladesh

The Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) is a private, nonprofit, nonpartisan research organization dedicated to promoting a greater understanding of the Bangladesh economy, its key policy challenges, domestically, and in a rapidly integrating global marketplace.

ই-পেমেন্টব্যবস্থা ও রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার

Published: Wednesday, Jun 06, 2012

ই-পেমেন্টব্যবস্থা ও রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার

বুধবার, জুন ৬, ২০১২। বণিকবার্তা
ড. আহসান মনসুর

কিছু দিন আগে মানণীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন ই-পেমেন্টের মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান ব্যবস্থার।

edকর পরিশোধে সমস্যায় পড়েনি এমন করদাতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। করদাতা হিসেবে মোটামুটি আমরা সবাই ভুক্তভোগী। বিদ্যমান ব্যবস্থায় কর দিতে হলে বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উেস কর (Withhold) দিতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের করব্যবস্থায় রাজস্ব দিতে হয় নগদ অর্থের মাধ্যমে। কর্মচারীদের বেতনের কর্তিত করের পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকভাবে বড় আকারের হয়ে যায়। টাকাটা প্রথমে ব্যাংক থেকে তুলতে হয়। এখানে ভয় থাকে ছিনতাইকারীর। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে পারেন আহত বা নিহত। টাকা হারিয়ে যেতে পারে। টাকা তুলে সোনালী ব্যাংক বা যারা ট্রেজারি অপারেট করে সেই ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজারি চালান হিসেবে সেটাকে জমা দিতে হয়। জমা দেয়ার পর একটা রসিদ পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় ট্রেজারি চালান। এটি প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে জমা দিতে হয় রাজস্ব অফিসে। এখানে সমস্যা কতগুলো। প্রথমত. ছিনতাইকারী ছাড়াও যে অ্যাকাউন্ট্যান্ট টাকাটা ব্যাংক থেকে উঠালেন, তিনি সঠিক ক্ষেত্রে জমা দিলেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। আমার কাছে কেবল একটা কাগজ আছে, যেটা আসল হতে পারে নকলও হতে পারে। কাগজে একটা সিল দেয়া থাকে। তা আসল না-ও হতে পারে। প্রতি স্তরে এ কাগজ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। আমরা তো সাধারণ ও ব্যস্ত মানুষ। পরীক্ষা করার মতো সময় কোথায়? কাজেই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীও কারসাজি করে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারেন; ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই কাজ করতে পারেন।

এটা কিন্তু হচ্ছে এবং হয়তো প্রতিদিনই হচ্ছে। ভুয়া ট্রেজারি চালান প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। এটা সবাই জানেন, আমরাও জানি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে বাস্তব একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চাই। আমাদেরই সহযোগী একটি প্রতিষ্ঠানের একজন হিসাবরক্ষক কর না দিয়ে জাল ও ভুয়া ট্রেজারি চালান দেখিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ব্যবহার করেছেন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য পূরণে। পরে অবশ্য ধরা পড়েছেন। সমস্যা এখানেই নিহিত নয়। কথা হলো, এ জালিয়াতির দায় কে নেবে? প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের হেয় হতে হচ্ছে, বাড়তি অর্থও গুনতে হচ্ছে দেরিতে রাজস্ব দেয়ার কারণে। নিজের সামনেই ঘটতে পারে এমন ঘটনা, কিন্তু জানার উপায় নেই। করদাতার সদ্দিচ্ছা সত্ত্বেও এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।
এটি নিরসনের জন্য আমি দেড় বছর ধরেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলছি। আমার পরামর্শটা ছিল আরেকটু সাদামাটা। ইলেকট্রনিক পেমেন্টের কথা তখনো মাথায় আসেনি। প্রস্তাব ছিল কমপক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক চেকগুলো রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রহণ করা। নগদ অর্থ লেনদেনের পরিবর্তে চেকের মাধ্যমে রাজস্ব পরিশোধের ব্যবস্থা করা। যদি কোনো চেক বাউন্স হয়, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হোক ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ব্যাংক টু ব্যাংক অর্থ ট্রান্সফারের কথাও বলেছিলাম। এ বিষয়ে আইনগত পরিবর্তন আনার কথাও আলোচনায় আসে। আইনের পরিবর্তন তখনো করা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে হঠাত্ করে একটা নিমন্ত্রণপত্র পেলাম। বিষয় হলো, রাজস্ব প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ই-পেমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। আমিও সেখানে গেলাম। শুনে ও দেখে খুব ভালো লাগল, বড় ধরনের প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গতানুগতিক কর সংগ্রহ ব্যবস্থায়। অবাক হলেও এটাই সত্য, ব্যবস্থাটা চালু হয়ে গেছে। মানণীয় প্রধানমন্ত্রীর কর দেয়ার মাধ্যমে হয়েছে এর যাত্রা। আশা করছি, আগামী মাস থেকে আমরাও ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কর পরিশোধ করব। এ প্রক্রিয়ার জন্য বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেন্ট ফান্ড (বিআইসিএফ), যা আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) বাংলাদেশভিত্তিক একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদেরও ধন্যবাদ দিতে হবে। তারা এ প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়নে এবং দেশীয় কারিগরদের সহায়তা দিয়ে এটাকে সোনালী ব্যাংকের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে কিউ-ক্যাশ সিস্টেমের মাধ্যমে। অনেকেই হয়তো কিউ-ক্যাশ সিস্টেমের কথা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে থাকবেন। বেশকিছু দিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে সোনালী ব্যাংকে কিউ-ক্যাশব্যবস্থা। এর সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্নভাবে জড়িত। 

একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা শুনলাম, যেটি পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার না করে পারছি না। আইএফসি প্রতিনিধি ড. মশরুর আহমেদ সেদিন বলছিলেন কীভাবে এ প্রক্রিয়াটা চিন্তার মধ্যে আসে তার। সেটা হলো, বছরখানেক আগে ঢাকা চেম্বার ও বিআইসিএফের যৌথ উদ্যোগে একটি সেমিনার হয়। সেখানে আলোচ্য বিষয় ছিল, কীভাবে বেসরকারি খাতকে আরও উজ্জীবিত করা যায়। আলোচনার একপর্যায়ে টাকার আদান-প্রদান ও ট্যাক্স পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ওই সেমিনারে এক নারী উদ্যোক্তা ছিলেন, যিনি মাছ ব্যবসায় সম্পৃক্ত। খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে মাছ এনে ঢাকার বড় বড় চেইন স্টোর ও অন্যান্য পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ব্যতিক্রমধর্মী, কারণ নারীরাও মাছের ব্যবসা করতে পারেন এমন উদাহরণ আমাদের খুব কমই আছে। তার সমস্যা হচ্ছিল, কীভাবে মাছ বিক্রেতাদের অর্থ পরিশোধ করবেন তিনি। তিনি থাকেন ঢাকায়; অথচ মাছ কেনেন সাতক্ষীরা ও খুলনার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। তার চিন্তা কীভাবে ঢাকায় অবস্থান করে প্রতিদিন মাছের দাম পরিশোধ করবেন। শেষে এটার একটা সমাধান করতে পেরেছেন কিউ-ক্যাশের মাধ্যমে। তিনি জানতে পারেন কিউ-ক্যাশ বলে সোনালী ব্যাংকের একটা ব্যবস্থা আছে, যার সঙ্গে অনেক ব্যাংক যুক্ত। ওই সব ব্যাংকে তিনি মাছ ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা থেকে নিয়মিতভাবে টাকা পাঠিয়ে দেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে— ইলেকট্রনিক সিস্টেমে।

এ ঘটনা শোনার পর বিআইসিএফের কর্মকর্তার মাথায় এল, এটা তো রাজস্বব্যবস্থায়ও সংযোজন করা যায়। করদাতাদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা করে দেয়া গেলে অর্থ বহনের ঝামেলা অনেক কমে যাবে। মাছের ব্যবসায়ী যদি মাছ সরবরাহের জন্য তাদের প্রতিদিনের টাকা ওই দিনেই শোধ করে দিতে পারেন, তাহলে একজন করদাতা ঢাকায় বা চট্টগ্রামে বসে কেন কিউ-ক্যাশের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব জমা দিতে পারবেন না? এটা বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণ একটা পরিবর্ধন মাত্র। যে প্রযুক্তিটা আছে, যে ফ্রেমওয়ার্ক ও ব্যাকবোন বাংলাদেশে কাজ করছে, সেটার একটা এক্সটেনসন হচ্ছে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে রাজস্ব পরিশোধ। এক বছরের মধ্যে পুরো বিষয়টাকে রাজস্ব বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এ উদ্যোগকে দুদিক থেকে স্বাগত জানাই। একটা হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিক থেকে এটা একটা বড় ও কাঠামোগত পরিবর্তন। এতে কর আদায়কারীদের মানি রিসিপ্ট নিয়ে আর ঝামেলা পোহাতে হবে না। তারা এখন অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দিতে পারবেন। করদাতা হিসেবে আমাদের ব্যাংকে লাইন দিতে হবে না ট্রেজারি চালানের জন্য। প্রতিটি ট্রেজারি চালান জমা দিতে একজন অ্যাকাউন্ট্যান্টের প্রায় অর্ধেক দিনই চলে যায়। ক্যাশ টাকা হ্যান্ডলিং থেকে তারাও অব্যাহতি পাবেন। এখন উদ্যোক্তারা ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত কর পরিশোধ করতে পারবেন। এই যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, এটাকে আমি বড় অর্জন বলেই মনে করি। এটা করদাতাকে প্রদত্ত সেবার মান উন্নত করবে, এনবিআর ভুয়া ট্যাক্স রিসিপ্ট থেকে মুক্তি পাবে। রাজস্ব আদায়ের জন্যও এটা সহায়ক হবে। কাঠামো থাকায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তেমন কষ্ট করতে হয়নি এ ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আরও অনেক নিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় প্রযুক্তিভিত্তিক অনেক নীতি নেয়া হয়েছে। ই-পেমেন্ট সিস্টেমে রাজস্ব পরিশোধের বিষয়টিকে ওয়েলকাম স্ট্যার্ট (Welcome Start) হিসেবে দেখতে চাইব। এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। প্রথমত. দেশীয় জনবল এবং ব্যবহূত অবকাঠামোকে কীভাবে আরও ব্যবহার করে স্বল্প পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের মাধ্যমে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনা যায় তা ভেবে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত. দেশীয় কারিগরি সহায়তায়ও যে এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা যায়, সেটির বড় প্রমাণ এই ই-পেমেন্ট সিস্টেম। ভবিষ্যতে যেসব কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে, সে সময় এ দুটি দিকে নজর দিতে হবে। এতে সম্পদের ব্যবহার ও ব্যয় কম হবে এবং দেশীয় জনবলের উত্কর্ষ বাড়বে। 

খসড়া ভ্যাট আইনটি এ বাজেট সেশনে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আইন তো শুধু একটা ভিত্তি দেবে, কিন্তু কাজ করতে হবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে। আইনটি রেলগাড়ির ইঞ্জিনের মতো। রেলগাড়ি চালাতে হলে আমাদের একটা রেললাইন লাগবে। এ রেললাইনটি হচ্ছে কর প্রশাসন (Tax Administration), যার মাধ্যমে আইনের প্রয়োগ হবে। লাইন ভালো না হলে রেলগাড়ি মাত্র ২০ মাইল বেগে চলবে; তাকে ১০০-২০০ মাইল বেগে চালানো যাবে না। চূড়ান্ত সাফল্য হচ্ছে ইঞ্জিনকে ১০০ মাইল বেগে নিয়ে যাওয়া। ২০ মাইল বেগে গাড়ি চললে বর্তমান অবস্থায়ই থেকে যাবে করব্যবস্থা। এটি করতে হলে রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। কিউ-ক্যাশের মাধ্যমে ই-পেমেন্ট সিস্টেম প্রচলন একটি ক্ষুদ্র যাত্রা মাত্র। এটা একটি মাত্র পেমেন্ট সিস্টেমকে অ্যাড্রেস করছে। 

রাজস্ব প্রশাসনের আরও অনেক দিক আছে যেমন অডিট সিলেকশন, ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়া, রেজিস্ট্রেশন করা, সার্টিফিকেট প্রসেস প্রভৃতির দিকেও নজর দিতে হবে। পেমেন্ট হিসট্রিগুলোকে একটি ইনফরমেশন ডাটা বেজে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু ট্যাক্স পেমেন্ট নয়, পুরো বিষয়কেই ডাটা বেজে রাখতে হবে। উত্পাদন, বিক্রি, উপাদান ক্রয় এগুলোর সামঞ্জস্য থাকবে সবসময়। প্রতি মাসের উত্পাদনের সঙ্গে উপাদান ক্রয়ের সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে। আমি হয়তো কাঁচামাল তিন মাসের জন্য কিনে রাখতে পারি; উত্পাদন তিন মাস ধরে চলতে পারে। এ ধরনের অসামঞ্জস্য দৃশ্যত হতেই পারে ক্ষণস্থায়ীভাবে। এক-দুই বছরের সংগ্রহীত তথ্যে একটা সামঞ্জস্য অবশ্যই থাকবে। এর ভিত্তিতে অডিট সিস্টেমকে কার্যকর করা, যা হতে হবে ক্রাইটেরিয়া বেজড। ক্রাইটেরিয়া বেজড সিলেকশনটা হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের মাধ্যমে। কে তার বিক্রয়ের তুলনায় লাভ খুব কম দেখাচ্ছে; কে তার বিক্রয়ের তুলনায় উপাদান কর রেয়াত বেশি নিচ্ছে, তার মানে মূল্য সংযোজন কর ও মুনাফা কমিয়ে দেখাচ্ছে— বিষয়গুলো দ্রুত বের করা যাবে সবকিছু কম্পিউটারাইজড হয়ে গেলে। সহজেই বের করা যাবে কারা সম্ভাব্য রাজস্বখেলাপি। 

এভাবে সিলেকশন প্রক্রিয়াকে একটি অবজেকটিভ ক্রাইটেরিয়ার ভেতরে নিয়ে আসতে হবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। ইন্সপেকশনের ক্ষেত্রেও তা-ই করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করদাতাদের সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রমের ইতিহাস-সংবলিত একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা, যা সর্বদাই আপডেট করা হবে। এতে এনবিআর সহজে ইন্সপেকশন, অডিট এবং তাদের সঙ্গে যেসব প্রক্রিয়া সংযুক্ত রয়েছে, সেগুলো প্রয়োগ করতে পারবে। এখন যেটা হচ্ছে সেটা এক ধরনের ধারণাভিত্তিক ব্যবস্থা, যার প্রয়োগ অনেকটাই অনিয়ন্ত্রিত। যেকোনো সময় কর আদায়কারী করদাতার কার্যালয়ে বা বাসায় গিয়ে হাজির হয়ে বলতে পারেন, আপনার তো সমস্যা আছে আমার সঙ্গে কথা বলতে হবে। অযাথা এমন হয়রানির ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ না এলে কর কর্মকর্তা কোনো করদাতার সঙ্গে কথাবার্তা বা যোগাযোগ করতে পারবেন না। এ ধরনের সম্পর্ককে আমরা বলি— অত্সং ষরমযঃ ত্বষধঃরড়হংযরঢ়। করদাতা ও কর আদায়কারীর সঙ্গে কোনো দিন দেখা হওয়ার প্রয়োজন নেই। যতক্ষণ না ওপর থেকে নির্দেশনা আসছে, ততক্ষণ করদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না এবং কেউ কারও মুখ দেখবেন না। প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন নেই, এটা শুধু নির্ণায়ন (Arms light relationship) ও অডিটের জন্যই হবে। বাংলাদেশের রাজস্ব কার্যক্রমে অডিটব্যবস্থা বর্তমানে খুবই দুর্বল। আমরা ২ শতাংশ করদাতাকে অডিট করতে পারি প্রতি বছর। এর অর্থ ৪০ বছরে গড়ে একবার অডিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেটা কাম্য নয়। এটাকে বাড়িয়ে তিন থেকে পাঁচ বছরে যেন গড়ে একবার অডিটের আওতায় একজন পড়েন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাত্ অডিট কার্যক্রমকে ৮-১০ গুণ বাড়াতে হবে।
 
এ ধরনের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এনবিআরের সামনে। এর জন্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাকে খুব দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে। ই-পেমেন্টের মাধ্যমে যে শুরুটা হলো, ছোট পদক্ষেপ হলেও আগামীতে বড় ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে এটি। সরকার দ্রুত এদিকে নজর দেবে বলেই প্রত্যাশা। 

লেখক: অর্থনীতিবিদ নির্বাহী পরিচালক, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)

Speech